বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

দর্শকের ভালোবাসা খুব উপভোগ করি : পপি

বিনোদন ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। তার সমসাময়িক অনেক নায়িকা পর্দা থেকে আড়ালে চলে গেলেও নিজের সরব উপস্থিতি জানান দিয়ে নিয়মিত কাজ করে চলছেন তিনি।

মায়ের অনুপ্রেরণায় আনন্দবিচিত্রা ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে মিডিয়াতে আগমন ঘটে তার। দর্শকদের ভোট এবং বিচারকের নিরপেক্ষ বিচারের মধ্য দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন রাজকীয় আগমন তখনই তাকে তারকাখ্যাতি এনে দেয়। এরপর মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত তার অভিনীত প্রথম ছবি ‘কুলি’ তারকাখ্যাতির পাশাপাশি নামের আগে যুক্ত করে দেয় সফল চিত্রনায়িকার বিশেষণ।

ঢাকাই ছবির সফল তারকা হয়েও খুব সাধারণভাবেই নিজেকে চিন্তা করেন পপি। ব্যক্তি এবং তারকা এ দুই পপির মধ্যে পার্থক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন- ‘প্রথমত আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই। তার দয়ায় আমি এ অবস্থানে আসতে পেরেছি। পরে আমার দর্শক এবং সাংবাদিক ভাইবোনদের প্রতিও আমি কৃজ্ঞত। কারণ শুরু থেকেই সবার ভালোবাসা এবং সাপোর্ট পেয়েছি। ব্যক্তি হিসেবে আমি খুবই সহজ-সরল এবং খুবই সাধারণ একটি মেয়ে।

আর অভিনেত্রী বা নায়িকা হিসেবে চরিত্রের প্রয়োজনে যখন যেমন সেটা দর্শকই অনেক ভালোভাবে জানেন।

তবে তারকাখ্যাতি বলব না, দর্শকের ভালোবাসা আমি খুব উপভোগ করি। যখন কোথাও বা আউটডোরে শুটিংয়ে গেলে দর্শক ছুটে আসে, কথা বলতে চায়, তাদের আবেগ-অনুভূতিগুলো প্রকাশ করে তখন তাদের এ ভালোবাসা চোখে জল এনে দেয়।’

ঢাকাই ছবির সফল এ নায়িকা নিজের সাবলীল অভিনয় আর নিপুণ অভিব্যক্তির তীর ছুড়ে ঘায়েল করেছেন অসংখ্য ভক্ত হৃদয়। ‘টার্নিং পয়েন্ট’ গল্পের আলাপচারিতায় প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে পপি বলেন- ‘‘১৯৯৭ সালে বোম্বেতে ‘বার্জার পেইন্ট’ একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে ক্যামেরার সামনে আমি প্রথম কাজ করি। আমার শটটা ছিল সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে নিচে নেমে আসা। আল্লাহর রহমতে ক্যামেরার সামনে প্রথম দিনে প্রথম শটটিই একেবারেই ‘ওকে’ হয়েছে। তার পেছনে একটা বড় কারণ অবশ্যই ছিল। সেটা হল সেখানকার পরিচালক থেকে শুরু করে ইউনিটের প্রতিটি মানুষের উৎসাহ এবং আন্তরিকতা। সেখানকার ইউনিটের প্রতিটি জিনিসই ছিল খুব সুন্দর সাজান-গুছান। যার সংকট আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এখনও বর্তমান। দেশের বাইরে প্রথম ক্যামেরার সামনে কাজ করলেও আমার কখনই সেটা মনে হয়নি। আমি কাজটাকে খুবই উপভোগ করেছি। এটাকেই আমি কাজের টার্নিং পয়েন্ট বলতে পারি।’’

দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের অভিনয় ক্যারিয়ারে তিনবার জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন এ চিত্রনায়িকা। অভিনয়ে সফলতা পেলেও এখনও অনেক ভালো কাজের অতৃপ্ততা রয়েছে তার মনের মধ্যে।

পপি বলেন- ‘আমাদের দেশে শিল্পীদের পরিপূর্ণ সম্মান করা হয় না এবং অভিনয়ের বেলায়ও যথাযথ ব্যবহার করা হয় না। সে ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অনেক ভালো ভালো শিল্পী অভিমান করে দূরে সরে গেছেন। একজন শিল্পী দেশের জাতীয় সম্পদ। নিজেদের জাতীয় খেলা হা-ডু-ডু বাদ দিয়ে আমরা ভিনদেশি ক্রিকেটের পেছনে শত কোটি টাকা খরচ করছি। ঠিক তেমনি আমাদের দেশীয় অনুষ্ঠানের অতিথি হয় বিদেশি শিল্পী। এটা আসলেই শিল্পী হিসেবে খুবই কষ্টদায়ক। সিনেমা একটি দেশের আয়না। যে আয়নার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে নিজের দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরা সম্ভব। কিন্তু এখন সে আয়না সর্বস্তরের অবহেলার চাদরে ঢাকা।’

তৃপ্ত-অতৃপ্ত, পাওয়া না পাওয়ার হিসাব কষতে গিয়ে পরিবেশটা খানিকটা গম্ভীর হয়ে পড়ে। প্রসঙ্গ পাল্টে শুরুর দিকে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে পপি বলেন- ‘আগে অভিনয় জানাটাই ছিল মুখ্য বিষয়। আমরা অভিনয় আর দর্শকের ভালোবাসা দিয়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছি। কিন্তু বর্তমান সময়ে অভিনয় বিষয়টাই গৌণ হয়ে গেছে। নানা কৌশলের আশ্রয়ে এখন যে কেউ নায়িকা হয়ে যেতে পারে! অভিনয় জানার দরকার হয় না।’

অনেক মান-অভিমান এবং ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতাসহ নানা গল্প শেয়ার করলেও যেখানে দর্শকের স্বপ্নের কুমারী কথা বলছেন সেখানে দর্শক কৌতূহলের প্রশ্নটি না করলেই যেন নয়।

আর তাই পপির কাছে জানতে চাওয়া হয়- আরও হচ্ছে একটি বছর গত, বিয়ের সানাই বাজতে আর দেরি কত? এমন কৌতূহলী প্রশ্নে অবলীলায় পপি বলেন- ‘বিয়ে কোনো ছেলেখেলা নয়। ঘনঘন প্রেমিক বদল করা, ঘরে স্বামী রেখে পরকীয়া করা বা দুই দিন সংসার করে তিন দিনের মাথায় আরেকজনকে বিয়ে করা স্বভাবের মেয়েদের মতো আমি নই। নিজের কাছে সৎ থাকাটা আমি অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। সে জন্যই বিয়ের বিষয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে চাই।’

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com